উদ্বোধনের আগেই ঝুঁকিতে তিস্তা সেতু! অবৈধ বালু উত্তোলনে আতঙ্কে এলাকাবাসী | Upazila Times



📅 ২৫ আগস্ট খুলছে স্বপ্নের তিস্তা সেতু

গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে ২৫ আগস্ট। উদ্বোধন হতে চলেছে ১,৪৯০ মিটার দীর্ঘ হরিপুর তিস্তা সেতু, যার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৯২৫ কোটি টাকা। এই সেতু উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে উদ্বোধনের আগেই দেখা দিয়েছে বড় শঙ্কা—সেতুর কাছেই তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন


🚫 আইন অমান্য করে সেতুর ৪০০ মিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন

বাংলাদেশের বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী, সেতু, কালভার্ট, রাস্তা বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র খননযন্ত্র বসিয়ে মাত্র ৪-৫শ মিটার দূরে নদী থেকে বালু তুলছে এবং পাইপের মাধ্যমে সংযোগ সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখছে।

এতে সেতুর বেস ও সংযোগ সড়ক দুর্বল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


🗣 স্থানীয়দের অভিযোগ ও ভয়

স্থানীয় বাসিন্দা আজগর আলী জানান—

“বালু তোলার কারণে সেতুর সংযোগ রাস্তাসহ ফসলি জমি হুমকির মুখে। প্রশাসন জানার পরও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন—

“দীর্ঘদিন ধরে বালু তোলা হচ্ছে। কিছুদিন আগে প্রশাসনের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল, তখন বন্ধ ছিল। কিন্তু আবার শুরু হয়েছে।”


প্রশাসনের অভিযান ও বাধা

  • সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চালালেও চক্রের তোপের মুখে অভিযান ব্যর্থ হয়।

  • ৫ জুলাই নৌপুলিশ এক অভিযানে একজনকে আটক করলে চক্র পুলিশকে হামলা করে আসামি ছিনিয়ে নেয়

  • মামলা হলেও আসামিরা জামিনে বের হয়ে পুনরায় বালু উত্তোলন শুরু করে।


📍 ঘটনাস্থলে যা দেখা গেছে

  • সেতুর নিচে ভাসমান বাঁশ ও ড্রামে ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন বসানো।

  • পাইপের মাধ্যমে নদী থেকে বালু তুলে মহাসড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে।

  • শ্রমিকদের সঙ্গে পাহারাদার রয়েছে, যাতে কেউ বাধা না দিতে পারে।


🗨 জড়িতদের প্রতিক্রিয়া

  • হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাজহারুল ইসলাম:

“নদীতে পাবলিকলি কেউ বালু তুলছে না। সরকারিভাবে এলজিইডি তুলতে পারে। আমি জড়িত নই।”

  • সুন্দরগঞ্জ ইউএনও রাজ কুমার বিশ্বাস:

“খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”

  • গাইবান্ধা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী:

“এভাবে বালু তুলতে থাকলে সেতু ও বেড়িবাঁধ ভেঙে যেতে পারে। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


🛑 কেন অবিলম্বে ব্যবস্থা জরুরি

হরিপুর তিস্তা সেতু শুধু উত্তরাঞ্চলের মানুষের গর্ব নয়, বরং দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে শত কোটি টাকার এই প্রকল্প হুমকিতে পড়তে পারে।
আইন প্রয়োগ এখনই সবচেয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

Previous Post Next Post